ঢাকা ০৫:৫৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১২ ডিসেম্বর ২০২৫, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বাগেরহাটের রামপালে বিভিন্ন ক্লাবে বিএনপি নেতা ড. ফরিদের ক্রীড়া সমগ্রী বিতরণ ফকিরহাটে বদলির প্রতিবাদে জনতার ঢল—“জনবান্ধব এসিল্যান্ড মেহেদীকে রাখতে চাই” বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় প্রাঙ্গণে মানববন্ধন ফকিরহাটে গ্রেপ্তারের পর অসুস্থ হয়ে সাজাপ্রাপ্ত আসামীর মৃত্যু মুন্সিগঞ্জে জমি ক্রয়-বিক্রয়সহ ভূমি সংক্রান্ত সকল পরামর্শ সার্ভেয়ারের বার্তা জামালপুরের কৃতিসন্তান মানবতার সেবায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সম্মাননা পেলেন পটুয়াখালীতে মানবাধিকার দিবস পালনে বর্ণনাঢ্য রেলি ও পথসভা বাগেরহাটের শরনখোলায় ডু সামথিং ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে কম্বল বিতরন ভূরঙ্গামারী সরকারি কলেজের শিক্ষক-শিক্ষিকা ও কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি মাদারীপুরের রাজৈরে কাভার্ট ভ্যানের চাপায় দুই বন্ধু নিহত বাগেরহাটে ও গাজীপুরে সীমানা নিয়ে হাইকোর্টের রায় বহাল রেখেছে আপিল বিভাগ

ঝালকাঠিতে তালগাছ কেটে শতাধিক ছানা হত্যা, স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ

জেলা প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৯:১৯:৩০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ জুন ২০২৫ ৬৫ বার পড়া হয়েছে
Jbangla.com অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ঝালকাঠি সদর উপজেলার পূর্ব গুয়াটন এলাকায় ঘটে গেল এক নির্মম পরিবেশ ধ্বংসের ঘটনা। এলাকাবাসীর অভিযোগ, শুক্রবার (২৭ জুন) বিকেলে একদল পাষণ্ড ব্যক্তি এলাকার একটি বিশাল তালগাছ কেটে ফেলে। গাছটিই ছিল শতাধিক বাবুই পাখির বাসা ও প্রজননের একমাত্র নিরাপদ আশ্রয়স্থল।

স্থানীয়রা জানান, তালগাছটি দীর্ঘদিন ধরে বাবুই পাখির নিরাপদ আবাসস্থল হিসেবে পরিচিত ছিল। এ গাছে অসংখ্য বাবুই পাখির বাসা, ডিম ও ছানা ছিল। গাছটি কাটার ফলে প্রায় শতাধিক ছানা ও ডিম ধ্বংস হয়ে যায়। এলাকাবাসী মর্মাহত হয়ে পড়েন এই বন্যপ্রাণী হত্যার ঘটনায়।

স্থানীয় পরিবেশ সচেতন নাগরিক সাব্বির ও জাহিদুল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এই তালগাছটি শুধু একটি গাছ ছিল না, ছিল একটি প্রাণবৈচিত্র্যের কেন্দ্র। যারা এই কাজ করেছে, তারা প্রকৃতির বিরুদ্ধে অপরাধ করেছে।”

এদিকে স্থানীয় প্রশাসন বা বন বিভাগ এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যবস্থা নেয়নি বলে জানা গেছে। তবে সচেতন মহল অবিলম্বে অভিযুক্তদের খুঁজে বের করে পরিবেশ আইনে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। বাবুই পাখি বাংলাদেশের পরিবেশের জন্য উপকারী ও সংরক্ষিত একটি প্রজাতি। তাদের বাসা তৈরি করার নান্দনিকতা ও সামাজিক আচরণ পৃথিবীব্যাপী প্রশংসিত। এ ধরনের বর্বরতা শুধুমাত্র জীববৈচিত্র্য ধ্বংসই নয়, বরং মানবিক মূল্যবোধকেও প্রশ্নবিদ্ধ করে।

এ বিষয় জানতে ঝালকাঠির সামাজিক বনায়ন নার্সারি ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ফরেস্টার (ভারপ্রাপ্ত বন কর্মকর্তা) মোঃ আরিফুর রহমান এর সাথে কথা বললে তিনি জানান, তালগাছের মালিকানা বন বিভাগের না। তবে বণ্য প্রাণি হত্যার বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে জড়িতের শোকজ করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। ওই স্থানে বন বিভাগের লোক পাঠানো হচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ঝালকাঠিতে তালগাছ কেটে শতাধিক ছানা হত্যা, স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ

আপডেট সময় : ০৯:১৯:৩০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ জুন ২০২৫

ঝালকাঠি সদর উপজেলার পূর্ব গুয়াটন এলাকায় ঘটে গেল এক নির্মম পরিবেশ ধ্বংসের ঘটনা। এলাকাবাসীর অভিযোগ, শুক্রবার (২৭ জুন) বিকেলে একদল পাষণ্ড ব্যক্তি এলাকার একটি বিশাল তালগাছ কেটে ফেলে। গাছটিই ছিল শতাধিক বাবুই পাখির বাসা ও প্রজননের একমাত্র নিরাপদ আশ্রয়স্থল।

স্থানীয়রা জানান, তালগাছটি দীর্ঘদিন ধরে বাবুই পাখির নিরাপদ আবাসস্থল হিসেবে পরিচিত ছিল। এ গাছে অসংখ্য বাবুই পাখির বাসা, ডিম ও ছানা ছিল। গাছটি কাটার ফলে প্রায় শতাধিক ছানা ও ডিম ধ্বংস হয়ে যায়। এলাকাবাসী মর্মাহত হয়ে পড়েন এই বন্যপ্রাণী হত্যার ঘটনায়।

স্থানীয় পরিবেশ সচেতন নাগরিক সাব্বির ও জাহিদুল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এই তালগাছটি শুধু একটি গাছ ছিল না, ছিল একটি প্রাণবৈচিত্র্যের কেন্দ্র। যারা এই কাজ করেছে, তারা প্রকৃতির বিরুদ্ধে অপরাধ করেছে।”

এদিকে স্থানীয় প্রশাসন বা বন বিভাগ এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যবস্থা নেয়নি বলে জানা গেছে। তবে সচেতন মহল অবিলম্বে অভিযুক্তদের খুঁজে বের করে পরিবেশ আইনে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। বাবুই পাখি বাংলাদেশের পরিবেশের জন্য উপকারী ও সংরক্ষিত একটি প্রজাতি। তাদের বাসা তৈরি করার নান্দনিকতা ও সামাজিক আচরণ পৃথিবীব্যাপী প্রশংসিত। এ ধরনের বর্বরতা শুধুমাত্র জীববৈচিত্র্য ধ্বংসই নয়, বরং মানবিক মূল্যবোধকেও প্রশ্নবিদ্ধ করে।

এ বিষয় জানতে ঝালকাঠির সামাজিক বনায়ন নার্সারি ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ফরেস্টার (ভারপ্রাপ্ত বন কর্মকর্তা) মোঃ আরিফুর রহমান এর সাথে কথা বললে তিনি জানান, তালগাছের মালিকানা বন বিভাগের না। তবে বণ্য প্রাণি হত্যার বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে জড়িতের শোকজ করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। ওই স্থানে বন বিভাগের লোক পাঠানো হচ্ছে।