ঢাকা ০৬:০৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ ডিসেম্বর ২০২৫, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ফকিরহাটে গ্রেপ্তারের পর অসুস্থ হয়ে সাজাপ্রাপ্ত আসামীর মৃত্যু মুন্সিগঞ্জে জমি ক্রয়-বিক্রয়সহ ভূমি সংক্রান্ত সকল পরামর্শ সার্ভেয়ারের বার্তা জামালপুরের কৃতিসন্তান মানবতার সেবায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সম্মাননা পেলেন পটুয়াখালীতে মানবাধিকার দিবস পালনে বর্ণনাঢ্য রেলি ও পথসভা বাগেরহাটের শরনখোলায় ডু সামথিং ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে কম্বল বিতরন ভূরঙ্গামারী সরকারি কলেজের শিক্ষক-শিক্ষিকা ও কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি মাদারীপুরের রাজৈরে কাভার্ট ভ্যানের চাপায় দুই বন্ধু নিহত বাগেরহাটে ও গাজীপুরে সীমানা নিয়ে হাইকোর্টের রায় বহাল রেখেছে আপিল বিভাগ এনসিপির মনোনয়ন প্রত্যাশী বেল্লাল হোসেনের মতবিনিময় ও গণসংযোগ অনুষ্ঠিত পুলিশ সুপার জামালপুর অন্তর্গত মেলান্দহ থানা পরিদর্শন

কুষ্টিয়ায় কবিতা উৎসব ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ২০২৫ এবং আত্মকথন

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০২:৫২:৪৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২০ এপ্রিল ২০২৫ ৮৬ বার পড়া হয়েছে
Jbangla.com অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ষ্টাফ রিপোর্টার:

কুষ্টিয়ার সাথে আমার সম্পর্ক সেই ১৯৭৪ সাল থেকে। আমার বাবা অর্থাৎ আমার সংগীত ও আধ্যাত্মিক জীবনের প্রথম গুরু শাহ সূফী মোহাম্মদ আলী সরদার চিশতি উচ্চতর শিক্ষা গ্রহনের জন্য গুরুজী মকসেদ আলী সাঁইজীর নিকট আমাকে প্রেরণ করেন। বাবার নির্দেশ মেনে সেখানে গেলেও মাত্র ১৫ দিনের মাথায় কাউকে না বলে ফিরে আসি বাড়িতে। তিন দিন পর বাবা জানতে পারেন আমি চলে এসেছি। আমাকে কাছে ডেকে ভীষণ বকাবকি করেছিলেন। বাবা ছিলেন কুষ্টিয়া উদীবাড়ীর শাহ সূফী হযরত মনসুর শাহর মুরিদ ও লালন ভক্ত। তিনি চেয়েছিলেন আমি আধুনিক, সিনেমার গান ও হিন্দি গান না করে লালনের গান শিখি। বাবার বকাবকিতে অতিষ্ঠ হয়ে বলেছিলাম ছ্যাতার লালন আমার ভালো লাগে না। একথা শুনে বাবা আর আমাকে আমৃত্যু এবিষয়ে কিছু বলেননি। আমি আমার মতো মঞ্চ মাতাতাম আধুনিক, সিনেমা আর হিন্দি গানে। পাশাপাশি পত্র মিতালি, ছড়া কবিতা লেখালেখি চলতে থাকে। ১৯৭৮ সালে অপ্রত্যাশিতভাবে সংবাদপত্রের সাথে যুক্ত হয়ে যাই ছড়া কবিতা লেখার সুবাদে সাংবাদিকতায়ও। ঢাকা থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক মুক্তি বাণীতে ঈশ্বরদী সংবাদদাতা হয়ে কাজ শুরু করি। কিন্তু সাংবাদিকতা পেশা হিসেবে গ্রহন করার কোন ইচ্ছে কখনওই ছিল না। ঘটনা চক্রে নিতে বাধ্য হয়েছি। ঈশ্বরদীর একটি সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান আন্তঃ উপজেলা সাহিত্য সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। এই প্রতিযোগিতায় আমি অংশ গ্রহণ করে ১৪টা আইটেমে প্রথম ও দ্বিতীয় হয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করি। আমার লেখনী দেখে মুগ্ধ হয়ে ঈশ্বরদী প্রেসক্লাবের তৎকালীন কোষাধ্যক্ষ দৈনিক প্রতিদিন’র ঈশ্বরদী প্রতিনিধি শ্রদ্ধাভাজন সেলিম খান সাংবাদিকতা পেশা হিসেবে গ্রহন করতে উৎসাহিত এবং বাধ্য করেন৷ এরপর শুরু হয় আমার ভালো কাগজ খোঁজার প্রতিযোগিতা। অসংখ্য কাগজে লিখেছি। শেষ অবধি খুলনার দৈনিক পূর্বাঞ্চল এরপর ঢাকা থেকে প্রকাশিত দৈনিক পত্রিকা সর্বশেষ ১৯৮৪ সালের ৪জুন থেকে ঢাকা থেকে প্রকাশিত দৈনিক ইনকিলাবে কাজ শুরু করি। পাশাপাশি চলতে থাকে সাংবাদিকদের সংগঠনের সাথে সম্পৃক্ত হয়ে নিজের অবস্থান সুদৃঢ় করা। একদিকে যেমন স্থানীয় ভাবে ঈশ্বরদী প্রেসক্লাবের সাধারণ সদস্য থেকে নির্বাচিত সভাপতি হওয়ার গৌরব অর্জন করেছি, অন্যদিকে সর্বস্তরের সাংবাদিকদের জাতীয় ভিত্তিক সংগঠন জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার সাধারণ সদস্য থেকে স্থানীয় সাধারণ সম্পাদক, কেন্দ্রের নির্বাহী সদস্য, শিক্ষা ও গবেষণা সচিব, অতিরিক্ত মহাসচিব, মহাসচিব এবং সর্বোচ্চ পরিষদের সদস্য সচিব নির্বাচিত হয়েছি। এই সংগঠনের সুবাদেই সারাদেশের ন্যায় কুষ্টিয়াতে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রোগ্রামে অসংখ্যবার বিশেষ অতিথি ও প্রধান অতিথি হিসেবে যাবার সুযোগ হয়েছে। বড় বড় আয়োজনে অসংখ্য বার সংবর্ধিত হয়েছি। এই জগতে ওতপ্রতভাবে জড়িত হবার কারণে ১৯৮৩ সালে আমার সংগীত চর্চা বন্ধ হয়ে যায়। সাহিত্য চর্চাও একরূপ বন্ধ হওয়ার মতোই অবস্থা হয়। বিধির বিধান বোঝা বড় মুশকিল। ২০০১ সালে আবার নতুন করে সংগীতাঙ্গনে প্রবেশ করার সুযোগ সৃষ্টি হয়৷ এবার কেন জানিনা, যে লালনকে আমি অপছন্দ করতাম, আমার এক বন্ধু তৎকালীন আরডিও আনিসুর রহমানের অনুপ্রেরণায় লালন প্রীতি আমার মধ্যে বাসা বাঁধে। ২০০১-২০০৫ সাল পর্যন্ত মহাত্মা লালন এবং তাঁর সৃষ্টি নিয়ে শুধু গবেষণায় করেছি। যা এখনো অব্যাহত রয়েছে। ২০০৬ সালে প্রথম পরীক্ষামূলক ভাবে লালন সাঁইজির বাণী দিয়ে আমার ঘরখানায় কে বিরাজ করে শিরোনামে একটি মিউজিক ভিডিও বের করি। ভিডিওটি দর্শক শ্রোতারা গ্রহণ করে। আমি অনুপ্রারণিত হই। ডিডিপি নামে একটি মিউজিক এন্ড এড কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করি ঢাকায়। ২০০৯ সালে ডিডিপির ব্যানারেই ঢাকা থেকে আমার একটি মৌলিক গানের মিউজিক ভিডিও প্রকাশ করি যার নাম ছিলো “মানসী”। এই মানসী এ্যালবাম থেকেই বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল বৈশাখী থেকে শুরু করে চ্যানেল ওয়ান, চ্যানেল আই, মাইটিভি সহ অসংখ্য চ্যানেলে আমার গানের প্রোগ্রাম হয়। এদিকে বাংলাদেশ বেতার রাজশাহীতেও অসংখ্য গান রেকর্ডিং হয়েছে আমার। ২০১১ সালে চাতক বাঁচে কেমনে নামে আরও একটি মিউজিক ভিডিও বের করি। এটিও দর্শক শ্রোতারা ভালোই গ্রহণ করেছিলেন। এরই মাঝে কুষ্টিয়া লালন একাডেমির আজীবন সদস্য পদ লাভ করি। এরপর থেকে প্রতিবছর অন্তত দুবার করে বড় মঞ্চে সাঁইজির কালাম পরিবেশনের সুযোগ পেয়ে আসছি। সংগীত এবং সাংবাদিকতার অঙ্গনে পরিচিতি ঘটলেও কুষ্টিয়া সাহিত্যাঙ্গনের গুণিজনদের সাথে আমার পরিচয় ছিলো না। ২০১৮ সালে আমার প্রথম কাব্যগ্রন্থ ” স্বপ্ন দেখি ” প্রকাশিত হবার পর থেকে কুষ্টিয়ার কবি, সাহিত্যিক ও লেখকদের সাথেও একে একে পরিচয় ঘটতে থাকে। এ পর্যন্ত একক ৫ টি এবং যৌথ ১৩ টি গ্রন্হ প্রকাশিত হয়েছে।সেই সুবাদে কুষ্টিয়ার ট্যাগোর লজ সহ বিভিন্ন মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সাহিত্যের অনেক অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি, বিশেষ অতিথি হয়ে যাবার সুযোগ আমার হয়েছে। সব অনুষ্ঠানই ভালো লেগেছে। বলা যায় সকল অনুষ্ঠানই ভিন্ন ভিন্ন ভাবে স্মরণীয়। তার মধ্যে গত ১১ এপ্রিল’২৫ ছিল আমার জীবনের আরও একটি স্মরণীয় দিন। এদিন ছিল কুষ্টিয়া জেলা শিল্প কলা একাডেমি মিলনায়তনে কাব্য সংসদ ও সুন্দরম ললিত কলা একাডেমি আয়োজিত ” কবিতা উৎসব ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ২০২৫। এ’অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত হতে পেরে ভীষণ ভালো লেগেছে। ভালো লেগেছে এজন্য যে,দেশ বরেণ্য কবি সাহিত্যিক সাংবাদিক গবেষক সংগঠক ও শিল্পীসহ গুণি মানুষদের সাথে পরিচিত হতে পেরেছি আবার পূর্ব

পরিচিত অনেক স্বজনের সাথে দীর্ঘদিন পর দেখা হয়েছে। আরও ভালো লেগেছে এজন্য যে, সাজানো গোঁছোনো সুশৃঙ্খল ধারাবাহিক অনুষ্ঠানটি সকাল ৯টায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শুরু হয়ে রাত সাড়ে ১০টায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে সমাপ্ত হয়। এর মাঝে দিনভর চলেছে পর্যায়ক্রমে একশত পঁচিশ জন কবির স্বরচিত কবিতা আবৃত্তি। সকল কবিকে মঞ্চে আসন দিয়ে উত্তরীয় পরিয়ে বরণ করে নেয়াটা অনুষ্ঠানের আলাদা মাত্রা যোগ করে। আমি বহু অনুষ্ঠানে যোগদান করে দেখেছি যে, সারাদেশ থেকে আমন্ত্রণ জানিয়ে কবিদের একত্রিত করে নিজেদের প্রতিষ্ঠানের নামে চাঁদাবাজি করে পকেট ভরে অথ

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

কুষ্টিয়ায় কবিতা উৎসব ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ২০২৫ এবং আত্মকথন

আপডেট সময় : ০২:৫২:৪৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২০ এপ্রিল ২০২৫

ষ্টাফ রিপোর্টার:

কুষ্টিয়ার সাথে আমার সম্পর্ক সেই ১৯৭৪ সাল থেকে। আমার বাবা অর্থাৎ আমার সংগীত ও আধ্যাত্মিক জীবনের প্রথম গুরু শাহ সূফী মোহাম্মদ আলী সরদার চিশতি উচ্চতর শিক্ষা গ্রহনের জন্য গুরুজী মকসেদ আলী সাঁইজীর নিকট আমাকে প্রেরণ করেন। বাবার নির্দেশ মেনে সেখানে গেলেও মাত্র ১৫ দিনের মাথায় কাউকে না বলে ফিরে আসি বাড়িতে। তিন দিন পর বাবা জানতে পারেন আমি চলে এসেছি। আমাকে কাছে ডেকে ভীষণ বকাবকি করেছিলেন। বাবা ছিলেন কুষ্টিয়া উদীবাড়ীর শাহ সূফী হযরত মনসুর শাহর মুরিদ ও লালন ভক্ত। তিনি চেয়েছিলেন আমি আধুনিক, সিনেমার গান ও হিন্দি গান না করে লালনের গান শিখি। বাবার বকাবকিতে অতিষ্ঠ হয়ে বলেছিলাম ছ্যাতার লালন আমার ভালো লাগে না। একথা শুনে বাবা আর আমাকে আমৃত্যু এবিষয়ে কিছু বলেননি। আমি আমার মতো মঞ্চ মাতাতাম আধুনিক, সিনেমা আর হিন্দি গানে। পাশাপাশি পত্র মিতালি, ছড়া কবিতা লেখালেখি চলতে থাকে। ১৯৭৮ সালে অপ্রত্যাশিতভাবে সংবাদপত্রের সাথে যুক্ত হয়ে যাই ছড়া কবিতা লেখার সুবাদে সাংবাদিকতায়ও। ঢাকা থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক মুক্তি বাণীতে ঈশ্বরদী সংবাদদাতা হয়ে কাজ শুরু করি। কিন্তু সাংবাদিকতা পেশা হিসেবে গ্রহন করার কোন ইচ্ছে কখনওই ছিল না। ঘটনা চক্রে নিতে বাধ্য হয়েছি। ঈশ্বরদীর একটি সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান আন্তঃ উপজেলা সাহিত্য সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। এই প্রতিযোগিতায় আমি অংশ গ্রহণ করে ১৪টা আইটেমে প্রথম ও দ্বিতীয় হয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করি। আমার লেখনী দেখে মুগ্ধ হয়ে ঈশ্বরদী প্রেসক্লাবের তৎকালীন কোষাধ্যক্ষ দৈনিক প্রতিদিন’র ঈশ্বরদী প্রতিনিধি শ্রদ্ধাভাজন সেলিম খান সাংবাদিকতা পেশা হিসেবে গ্রহন করতে উৎসাহিত এবং বাধ্য করেন৷ এরপর শুরু হয় আমার ভালো কাগজ খোঁজার প্রতিযোগিতা। অসংখ্য কাগজে লিখেছি। শেষ অবধি খুলনার দৈনিক পূর্বাঞ্চল এরপর ঢাকা থেকে প্রকাশিত দৈনিক পত্রিকা সর্বশেষ ১৯৮৪ সালের ৪জুন থেকে ঢাকা থেকে প্রকাশিত দৈনিক ইনকিলাবে কাজ শুরু করি। পাশাপাশি চলতে থাকে সাংবাদিকদের সংগঠনের সাথে সম্পৃক্ত হয়ে নিজের অবস্থান সুদৃঢ় করা। একদিকে যেমন স্থানীয় ভাবে ঈশ্বরদী প্রেসক্লাবের সাধারণ সদস্য থেকে নির্বাচিত সভাপতি হওয়ার গৌরব অর্জন করেছি, অন্যদিকে সর্বস্তরের সাংবাদিকদের জাতীয় ভিত্তিক সংগঠন জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার সাধারণ সদস্য থেকে স্থানীয় সাধারণ সম্পাদক, কেন্দ্রের নির্বাহী সদস্য, শিক্ষা ও গবেষণা সচিব, অতিরিক্ত মহাসচিব, মহাসচিব এবং সর্বোচ্চ পরিষদের সদস্য সচিব নির্বাচিত হয়েছি। এই সংগঠনের সুবাদেই সারাদেশের ন্যায় কুষ্টিয়াতে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রোগ্রামে অসংখ্যবার বিশেষ অতিথি ও প্রধান অতিথি হিসেবে যাবার সুযোগ হয়েছে। বড় বড় আয়োজনে অসংখ্য বার সংবর্ধিত হয়েছি। এই জগতে ওতপ্রতভাবে জড়িত হবার কারণে ১৯৮৩ সালে আমার সংগীত চর্চা বন্ধ হয়ে যায়। সাহিত্য চর্চাও একরূপ বন্ধ হওয়ার মতোই অবস্থা হয়। বিধির বিধান বোঝা বড় মুশকিল। ২০০১ সালে আবার নতুন করে সংগীতাঙ্গনে প্রবেশ করার সুযোগ সৃষ্টি হয়৷ এবার কেন জানিনা, যে লালনকে আমি অপছন্দ করতাম, আমার এক বন্ধু তৎকালীন আরডিও আনিসুর রহমানের অনুপ্রেরণায় লালন প্রীতি আমার মধ্যে বাসা বাঁধে। ২০০১-২০০৫ সাল পর্যন্ত মহাত্মা লালন এবং তাঁর সৃষ্টি নিয়ে শুধু গবেষণায় করেছি। যা এখনো অব্যাহত রয়েছে। ২০০৬ সালে প্রথম পরীক্ষামূলক ভাবে লালন সাঁইজির বাণী দিয়ে আমার ঘরখানায় কে বিরাজ করে শিরোনামে একটি মিউজিক ভিডিও বের করি। ভিডিওটি দর্শক শ্রোতারা গ্রহণ করে। আমি অনুপ্রারণিত হই। ডিডিপি নামে একটি মিউজিক এন্ড এড কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করি ঢাকায়। ২০০৯ সালে ডিডিপির ব্যানারেই ঢাকা থেকে আমার একটি মৌলিক গানের মিউজিক ভিডিও প্রকাশ করি যার নাম ছিলো “মানসী”। এই মানসী এ্যালবাম থেকেই বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল বৈশাখী থেকে শুরু করে চ্যানেল ওয়ান, চ্যানেল আই, মাইটিভি সহ অসংখ্য চ্যানেলে আমার গানের প্রোগ্রাম হয়। এদিকে বাংলাদেশ বেতার রাজশাহীতেও অসংখ্য গান রেকর্ডিং হয়েছে আমার। ২০১১ সালে চাতক বাঁচে কেমনে নামে আরও একটি মিউজিক ভিডিও বের করি। এটিও দর্শক শ্রোতারা ভালোই গ্রহণ করেছিলেন। এরই মাঝে কুষ্টিয়া লালন একাডেমির আজীবন সদস্য পদ লাভ করি। এরপর থেকে প্রতিবছর অন্তত দুবার করে বড় মঞ্চে সাঁইজির কালাম পরিবেশনের সুযোগ পেয়ে আসছি। সংগীত এবং সাংবাদিকতার অঙ্গনে পরিচিতি ঘটলেও কুষ্টিয়া সাহিত্যাঙ্গনের গুণিজনদের সাথে আমার পরিচয় ছিলো না। ২০১৮ সালে আমার প্রথম কাব্যগ্রন্থ ” স্বপ্ন দেখি ” প্রকাশিত হবার পর থেকে কুষ্টিয়ার কবি, সাহিত্যিক ও লেখকদের সাথেও একে একে পরিচয় ঘটতে থাকে। এ পর্যন্ত একক ৫ টি এবং যৌথ ১৩ টি গ্রন্হ প্রকাশিত হয়েছে।সেই সুবাদে কুষ্টিয়ার ট্যাগোর লজ সহ বিভিন্ন মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সাহিত্যের অনেক অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি, বিশেষ অতিথি হয়ে যাবার সুযোগ আমার হয়েছে। সব অনুষ্ঠানই ভালো লেগেছে। বলা যায় সকল অনুষ্ঠানই ভিন্ন ভিন্ন ভাবে স্মরণীয়। তার মধ্যে গত ১১ এপ্রিল’২৫ ছিল আমার জীবনের আরও একটি স্মরণীয় দিন। এদিন ছিল কুষ্টিয়া জেলা শিল্প কলা একাডেমি মিলনায়তনে কাব্য সংসদ ও সুন্দরম ললিত কলা একাডেমি আয়োজিত ” কবিতা উৎসব ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ২০২৫। এ’অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত হতে পেরে ভীষণ ভালো লেগেছে। ভালো লেগেছে এজন্য যে,দেশ বরেণ্য কবি সাহিত্যিক সাংবাদিক গবেষক সংগঠক ও শিল্পীসহ গুণি মানুষদের সাথে পরিচিত হতে পেরেছি আবার পূর্ব

পরিচিত অনেক স্বজনের সাথে দীর্ঘদিন পর দেখা হয়েছে। আরও ভালো লেগেছে এজন্য যে, সাজানো গোঁছোনো সুশৃঙ্খল ধারাবাহিক অনুষ্ঠানটি সকাল ৯টায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শুরু হয়ে রাত সাড়ে ১০টায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে সমাপ্ত হয়। এর মাঝে দিনভর চলেছে পর্যায়ক্রমে একশত পঁচিশ জন কবির স্বরচিত কবিতা আবৃত্তি। সকল কবিকে মঞ্চে আসন দিয়ে উত্তরীয় পরিয়ে বরণ করে নেয়াটা অনুষ্ঠানের আলাদা মাত্রা যোগ করে। আমি বহু অনুষ্ঠানে যোগদান করে দেখেছি যে, সারাদেশ থেকে আমন্ত্রণ জানিয়ে কবিদের একত্রিত করে নিজেদের প্রতিষ্ঠানের নামে চাঁদাবাজি করে পকেট ভরে অথ